বিগত দিনে প্রেসক্লাব ফ্যাসিবাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হয়ে যাওয়ার সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অনেকের কাছে আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হতো।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন বিরোধী মতের মানুষের জন্য প্রকাশ্যে কথা বলার বা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার মতো জায়গা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও আক্রমণের কারণে অনেকেই কোথায় দাঁড়িয়ে কথা বলবেন বা নিজেদের মতামত প্রকাশ করবেন, সে সুযোগ খুঁজে পেতেন না।
রিজভীর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদী আক্রমণের কারণে সমাজের বিভিন্ন পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছিল। যারা সে সময়ে সরকারের বিরোধিতা করতেন কিংবা ভিন্নমত প্রকাশ করতেন, তাদের জন্য নিরাপদভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আক্রমণের তোড়ে পরিসরগুলো এত সংকুচিত হচ্ছিল যে, যারা ওই সময় বিরোধীমত প্রকাশ করতেন তাদের কোনো জায়গা ছিল না। কোথায় দাঁড়াবে, কোথায় কী বলবে সেই জায়গা ছিল না।’
রিজভী আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে অনেকে আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করতেন। সাংবাদিকদের এই সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্যে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তিনি।
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রিজভী সাংবাদিকদের সংগঠনটির ভূমিকা এবং অতীতের বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিরোধী মত ও ভিন্নমত প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত পরিসর থাকা প্রয়োজন বলে গুরুত্ব দেন।
রিজভীর বক্তব্যে মূলত অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশের সুযোগ, বিরোধী মতের মানুষের অবস্থান এবং ডিআরইউর ভূমিকা নিয়ে তার মূল্যায়ন উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, সংকুচিত রাজনৈতিক পরিসরের সময়ে ডিআরইউ অনেকের জন্য কথা বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছিল।










