দীর্ঘ সাত বছর পর পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন দেশটির টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম। টেস্ট ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিনের ছন্দহীনতা কাটিয়ে ফর্মে ফেরার লক্ষ্যেই ঘরোয়া রেড বল ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি বাবরকে। সর্বশেষ ওই বছর কায়েদে আজম ট্রফিতে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাইনালে নর্দার্নকে এক ইনিংস ও ১৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাবরের দল।
এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তানের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটে তার ব্যাটিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টেস্টে বাবরের ব্যাটিং গড় ছিল যথাক্রমে ২২, ২০ ও ৩১। চার বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে কোনো শতকের দেখা পাননি তিনি।
এ অবস্থায় চলমান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড ওয়ানে ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন বাবর। দলটির ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ফারাহ বাতুল জানিয়েছেন, ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে ফেরার কথা রয়েছে বাবরের। পরদিনই তিনি ওজিডিসিএল দলে যোগ দেবেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় ক্রিকেট সরঞ্জামও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তবে দলের হয়ে ঠিক কোন ম্যাচ থেকে মাঠে নামবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ওজিডিসিএল বর্তমানে ইসলামাবাদে পাকিস্তান টেলিভিশনের বিপক্ষে খেলছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারে কিংসম্যান একাডেমির বিপক্ষে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। বাবর দেশে ফেরার পর দ্বিতীয় নাকি তৃতীয় ম্যাচ থেকে খেলবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগেই বাবরকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ওজিডিসিএলে দেওয়া হয়েছে বলে ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব ফিরে পান বাবর। তবে তার নেতৃত্বে শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১ ১ ব্যবধানে ড্র করার পর ইংল্যান্ডের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩ ০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ইংল্যান্ড সিরিজে কঠিন সময় পার করেছেন বাবর। প্রথম টেস্টে চোটের কারণে খেলতে না পারার পর পরের দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তার রান ছিল ৮, ৬, ৭ ও ৭৬। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দুই টেস্টে ১৯৬ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি।
এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের বাইরে দীর্ঘ ফরম্যাটে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাচ্ছেন বাবর। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ভালো পারফরম্যান্স তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পাকিস্তানের টেস্ট দলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।










