ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া ও সামিত সোমদের বাংলাদেশ। এর আগে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে প্রথম দুই ম্যাচেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। তিন ম্যাচে মোট ১৩ গোল হজম করেছে দলটি।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দ্রুতগতির ও পরিকল্পিত আক্রমণের বিপরীতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে ছিল বোঝাপড়ার ঘাটতি। একের পর এক ভুল পাস এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ১১তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া।
২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লে বেকার। ৩২তম মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। চারজন বাংলাদেশি ডিফেন্ডার কাছাকাছি থাকার পরও বল ঠেকাতে পারেননি। ৩৬তম মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের গোলে বাংলাদেশ একটি গোল শোধ করে কিছুটা স্বস্তি পায়। তবে এক মিনিট পরই আবার গোল হজম করে বাংলাদেশ। লে বেকার নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এরপর ৪২তম মিনিটে চতুর্থ গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল হলে ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইন্দোনেশিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কিছুটা সংগঠিত ফুটবল খেললেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ অব্যাহত থাকে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আবারও বাংলাদেশের জালে বল যায়। অতিরিক্ত সময়ে রাকিবের ক্রস থেকে ফারহান আলী গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও দুই গোল করে ইন্দোনেশিয়া। মিচেল বেকার নিজের চতুর্থ গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৯-২ ব্যবধানে হার নিয়ে আসিয়ান কাপ শেষ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ফুটবলে বড় ব্যবধানে হার অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০, ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯-০ এবং ১৯৮৫ সালে হংকংয়ের কাছে ৯-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল হজমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পেরেছে মাত্র দুটি। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলীর গোলই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র গোলের দেখা পাওয়া।










