বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া আয়োজনের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।
বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনো পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে নতুন একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কেন বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রত্যাহারের ঘটনাকে ঘিরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথির আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব থাকে।
ফোরকোর্টে অনুষ্ঠিত এসব আনুষ্ঠানিকতা ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিল করে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা উল্লেখ করা হলেও পরে সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘটনায় দুই দেশের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে তারেক রহমানের দিল্লি সফর সত্যিই চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সফরের সম্ভাব্য তারিখ কী এবং সফরে কী ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।










