ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের প্রতিরোধক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে তাইওয়ানকে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি সামরিক পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিরোধ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানি থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার কারণে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানে কিছুটা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। এসব ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এটিএসিএমএস ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও গুরুতরভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধী বিভিন্ন সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের ওপরও। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকলেও ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে পশ্চিমা দেশগুলোর সক্ষমতা আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকট নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য পূরণের জন্য মার্কিন বাহিনীর হাতে এখনো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সম্পদ রয়েছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অব্যাহত থাকলে অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ায় সামরিক প্রতিরোধ বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল










