ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদপানে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে ১০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তদন্তের পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সাগর জেলার কয়েকটি গ্রামে বিষাক্ত মদপানের পর একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় ছয়টি মদের দোকান সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মদটির উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
আক্রান্তদের মধ্যে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি, তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এসব লক্ষণ মিথাইল অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাগরের নৌরা ও ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাধিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মদ পান করা ব্যক্তিদের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি বন্ধে আবগারি বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে ভেজাল মদ বিক্রির অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুলিশ মদের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট পুরো চক্র শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে।










