দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক বা রোগের চিকিৎসানির্ভর না রেখে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিরোধমুখী কাঠামোয় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান সরকার দেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান।
সেমিনারে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হওয়া উচিত নয়। রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গু, হাম, হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে এবং মৃত্যুঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অনেক সময় জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য দূরের শহর বা বিশেষায়িত হাসপাতালে যেতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল পর্যন্ত একটি সুসংহত ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন। প্রত্যন্ত এলাকায় গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে যাতে কোনো মা বা নবজাতক ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, গবেষক, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ডা. জুবাইদা রহমানের মতে, একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা, প্রাথমিক স্ক্রিনিং, দ্রুত রেফারেল এবং প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।










