ইরানের উত্থাপিত সাতটি শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। মোহেব্বি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন সেই অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার কাজ চলছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে সামরিক শক্তি মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রত্যাশা করেছিল। তবে ইরানের প্রতিরোধের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মোহেব্বি বলেন, এই কৌশলগত জলপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি কয়েক ঘণ্টার জন্যও পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার আগে তেহরান সাতটি শর্ত জানিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে সাতটি শর্তের সবগুলো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে তেহরান ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। আইআরজিসির কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নিজেদের শর্ত ও স্বার্থের ভিত্তিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বিবেচনা করা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এর চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।










