ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানার উত্তরে আমরান প্রদেশের হারফ সুফিয়ান জেলায় সাত দফা বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আল মাসিরা টেলিভিশন। তবে এসব হামলা কারা চালিয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী সানায়ও পৃথক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলায় হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তায়েজ সামরিক অঞ্চলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শহরটির পূর্বাঞ্চলের আল মাকরামি, আল জাশা ও আল সাল্লাল পাহাড়ে হুতিদের অবস্থান, সমাবেশ এবং যানবাহন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রদেশটির দক্ষিণে আকরুজ ফ্রন্টের হিসন আল মুখাফ ও বালান এলাকাতেও হামলা চালানো হয়। এসব অভিযানে হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট হিসাব জানায়নি সেনাবাহিনী।
হুতিদের পরিচালিত সাবা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সা’দা প্রদেশের মাজজ জেলা ও সা’দা শহরে ছয়টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। পাশাপাশি সাহার জেলায় রকেট হামলার খবরও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে তার গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিমান সংস্থা, বিমান চলাচলসংশ্লিষ্ট কর্মী এবং যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেন। এসব স্থাপনা ও এলাকায় হামলা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগের দিন শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন। তবে এ ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে গত জুলাই থেকে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাব প্রতিবেশী সৌদি আরবেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশটির কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় ইয়েমেন এবং আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি।










