নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীর তীরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। দেশটির প্রধান উৎসব দশাইন সামনে রেখে এ দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১০০টি গবাদিপশুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং ৬৫০ জনের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগে গোরখা জেলার চুমানুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার অন্তত দুটি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে গ্রাম দুটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ৭০০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নেপালি সেনাবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল এ পর্যন্ত ৯৫ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়া অথবা হিমবাহসংক্রান্ত কোনো ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা আকস্মিকভাবে নদীর পানির উচ্চতা বাড়িয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে চলমান তদন্তের আগে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এর আগে গত আগস্টে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন অনেক বাসিন্দা। এর মধ্যেই নতুন বন্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, বসতবাড়ি পুনর্গঠন এবং জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দশাইন নেপালের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। উৎসবের আগে ঘরবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।










