চার দশকের বেশি সময় পর দেশে আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। খসড়াটির বিষয়ে আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে। এতে থাকবেন একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সদস্য নির্বাচনে ওয়ার্ডের ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে প্রায় সাত লাখ স্থানীয় ব্যক্তিকে নিয়ে এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হতে পারে।
গ্রাম সরকারের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায়ও ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।
খসড়ায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণে সহায়তা এবং ভিজিএফ ও ভিজিডি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রাম সরকার প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সভা করবে এবং প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা আয়োজন করবে। এর জন্য আলাদা তহবিল থাকবে। তবে জেলা প্রশাসক তদন্তের পর প্রয়োজন মনে করলে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন।
গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রথম চালু হয় ১৯৮০ সালে। পরে ১৯৮২ সালে তা বিলুপ্ত করা হয়। ২০০৩ সালে আবার আইন প্রণয়ন করা হলেও ২০০৯ সালে তা রহিত করা হয়। নতুন খসড়া এখনো চূড়ান্ত আইন নয়; সংসদে পাস হওয়ার পরই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।










