দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজের কাজ এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর এবং ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করতে পারেন।
গত ১৩ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এর জন্য সরকার ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক এবং বিভিন্ন ধরনের গাইড ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা কমানো এবং সুন্দরবনে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কভাবে বিবেচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সূত্র: বাসস,










