আধুনিক ফুটবলের তিন মহাতারকা লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। তাঁদের ফুটবলশৈলী, অর্জন ও ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বিশ্বজুড়ে কোটি সমর্থকের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। মাঠে তাঁদের নৈপুণ্য, গোলের রেকর্ড এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বদলে দিয়েছে ফুটবল নিয়ে মানুষের ভাবনা। এখন তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ঘিরে বিদায়ের আলোচনা ফুটবলপ্রেমীদের মনে তৈরি করছে এক যুগের অবসানের অনুভূতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন তারকার জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোলের মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত মিল। নেইমার, মেসি ও রোনালদো—তিনজনই নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোলটি করেছেন পেনাল্টি থেকে।
ব্রাজিলের নেইমার তাঁর ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। হলুদ জার্সিতে তাঁর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। ২৮ জুলাই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিখুঁত পাস, অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ এবং গোল করার দক্ষতায় ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও গড়েছেন অনন্য কীর্তি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের মাটিতে বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি।
অন্যদিকে, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পরিচিত তাঁর অদম্য পরিশ্রম, গোলের ক্ষুধা, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের জন্য। প্রতিবেদনে ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পর্তুগালের হয়ে তাঁর শেষ গোলটিও পেনাল্টি থেকে এসেছিল।
তিন তারকাকে ঘিরে একসময় ফুটবলবিশ্বে চলত কে সেরা, কার গোল বেশি কিংবা কার অর্জন বেশি—এমন অসংখ্য বিতর্ক। তাঁদের বিদায়ের আলোচনায় এখন সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে স্মৃতি ও অবদানই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতে রেকর্ড ভাঙতে পারেন। তবে মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর দুর্দান্ত উদ্যাপন এবং নেইমারের নান্দনিক ড্রিবলিং একই সময়ে ফুটবলকে যে রূপ দিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি সহজ হবে না। তাঁদের অবদান তাই কেবল পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; একটি প্রজন্মের ফুটবলীয় আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।










