যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী আরও শক্তিশালী, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী বলে দাবি করেছে তেহরান। সরাসরি সংঘাত থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক ও প্রস্তুত। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রেরণা, অঙ্গীকার ও আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। আকরামিনিয়ার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো হামলার জবাব তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই প্রতিক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির ইরানি দ্বীপ কেশমে হামলার খবর প্রকাশের পর চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেশম দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, শনিবার ভোরে ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে দ্বীপটিতে হামলার বিষয়ে তেহরান বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।










