ময়মনসিংহে রাজিব পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর আকুয়া বাইপাস এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ও শরিফপুর ইউনিয়নে। একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনান। এ ছাড়া আকরাম হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৮) এবং অটোরিকশাচালক সুজন মিয়া (৪৫) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর সোয়া একটার দিকে নান্দিনা থেকে ময়মনসিংহগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা রাজিব পরিবহনের একটি বাস সেটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
নিহত মোফাজ্জল হোসেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা, মেয়ে ও নাতিকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আগের দিন গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথমে ময়মনসিংহ শহরে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
স্বজন ইসমতারার দাবি, মোফাজ্জল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার জন্যই গ্রামে এসেছিলেন। তার মেয়ে মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও জানান তিনি। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনেরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে রাজিব পরিবহনের বাসের চলাচল নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবহনটির বেপরোয়া চলাচলের কারণে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, গত ২০ মাসে এই পরিবহনের বাসের সঙ্গে জড়িত অন্তত নয়টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন করে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে বাস চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।










