দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে নীরব ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। অবশেষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেই দীর্ঘদিনের নীরবতা কাটিয়ে আবারও মাঠে গড়াল বল, ফিরে এলো শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত কোলাহল।
রোববার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠটির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জুলাই-আগস্ট শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আন্তঃঅনুষদ ছাত্র ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মাঠ ও প্রতিযোগিতা উভয়েরই উদ্বোধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ছয়টি অনুষদের ছয়টি দল অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী দিনেই অনুষ্ঠিত হয় দুটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ— একদিকে মুখোমুখি হয় ব্যবসায় প্রশাসন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কলা অনুষদ ও চারুকলা অনুষদ। প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ আগস্ট একই মাঠে।
মাঠ ও ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন উপাচার্য, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার, চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সংস্কারের পরিকল্পনা গৃহীত হওয়ার পর একই বছরের মে মাসে কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ এই সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে প্রায় দেড় বছর মাঠটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা তাদের ক্যাম্পাস জীবনে একধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল।
সংস্কার সম্পন্ন হয়ে মাঠটি আবার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসে ক্রীড়াচর্চা নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একই সঙ্গে তাদের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সাতান্ন একর ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও পঁচাত্তর একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম ইতিমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে, যেখানে নতুন খেলার মাঠের পাশাপাশি সুইমিংপুলসহ আরও নানা ধরনের ক্রীড়া সুবিধা থাকবে।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তর খেলোয়াড়দের সার্বিক উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং দলগত মনোভাব গড়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

