ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও নির্বাচনের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কোনো রায় হয়নি, তবে নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন গত দুই বছরে বিচার হয়নি। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও তা থেমে থাকেনি। তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনায় যারা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বিচার যেন প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, ন্যায়বিচারের নীতিতে পরিচালিত হয়, সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও তার সাজা কার্যকর হওয়ার আগে দেশে ফিরে আসার সুযোগ নেই। আত্মসমর্পণ ছাড়া তার ফেরার অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত উদ্যোগে একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রায় সব দলই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৭ সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রথম বৈঠকও ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির সাতজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাঁচজন এবং জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে জামায়াত প্রস্তাব প্রণয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকার অবস্থান জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শহীদ ফরহাদ ও শহীদ তরুয়ার পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দিনব্যাপী আয়োজনে উদ্বোধনী র্যালি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মঞ্চনাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।










