সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে এসেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত দাবি সঠিক নয়। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত ভিডিওতে অন্য প্রবাসীর মরদেহবাহী কফিন দেখা গেছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ খবর প্রকাশের পর বিমানবন্দরে কফিন বহনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়, ওই কফিন দুটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভিডিওটির সূত্র অনুসন্ধান করে আহমেদ দিদার নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত দুটি ভিডিওর একটি পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোর ক্যাপশনে প্রথমে নজরুল ও সিতির মরদেহ দেশে আসার দাবি করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে প্রবাসী এক ব্যক্তির মরদেহ বলে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিওতে দেখা কফিনের একটি অ্যাম্বুলেন্সের সূত্র ধরে রিউমর স্ক্যানার সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পিয়াস নামের এক স্বজন জানান, ১৭ অক্টোবর বিমানবন্দরে মোট সাতটি মরদেহের কফিন ছিল। এর মধ্যে ছয়টি সৌদি আরব থেকে এবং একটি মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল। তাঁদের পরিবারের একজনের মরদেহও ওই দিন দেশে আসে। তবে সেখানে নজরুল ও সিতির মরদেহ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া নজরুলের এক আত্মীয় রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহ তখনো দেশে আসেনি। ভিডিওটির ভুল ক্যাপশন দেওয়ার জন্য আহমেদ দিদার পরে ক্ষমাও চান।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। অন্য প্রবাসীর মরদেহবাহী কফিনের ভিডিওকে ভুল তথ্যসহ প্রচার করা হয়েছিল।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা খবর শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।










