গাইবান্ধায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ভ্যাকসিন-জটিলতায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার সকালে হঠাৎ হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল দশটার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি জরুরি বিভাগে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সেবার মান যাচাই করেন।
পরিদর্শনকালে একজন রোগী, যিনি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছিলেন, অভিযোগ তোলেন যে হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (অ্যান্টি র্যাবিস) ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও তাকে তা সরবরাহ করা হয়নি। এই অভিযোগ শুনে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ হন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে তাকে বরখাস্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মন্ত্রীকে প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই রোগী গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস সময়ের পরে হাসপাতালে আসেন, ফলে সেদিন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যায়নি, তাই রোগীকে বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে হাসপাতালেই প্রয়োগ করা হয়।
এই ব্যাখ্যা শোনার পর মন্ত্রী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। পরিবর্তে তিনি নির্দেশ দেন, রোগী যে এক হাজার ত্রিশ টাকা খরচ করে ভ্যাকসিন কিনেছিলেন, তা তাকে ফেরত দিতে হবে। পরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজেই সেই অর্থ রোগীকে পরিশোধ করেন।
মন্ত্রী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এলাকার দুটি বেসরকারি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারও ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি একই জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

