ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির দেওয়া বিবৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার অভিযোগ, তার পূর্ণ সম্মতি ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতির বর্তমান সাংগঠনিক বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী কমিটি দায়িত্ব পালন করতে পারে। তবে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম সম্পাদকসহ ১১ জন একযোগে পদত্যাগ করেন। এর আগে একজন সদস্য পদত্যাগ, একজনের মৃত্যু এবং আরেকজন দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকায় বর্তমানে কার্যত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়েই সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হলে সভাপতি জানান, তিনি সাধারণ সম্পাদককে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, কিন্তু তার আগেই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থায় শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে একটি শিক্ষক সমিতি কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বিষয়টিকে সমিতির অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, গঠনতন্ত্রে দুই সদস্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং বর্তমান কার্যক্রম গঠনতন্ত্র অনুসারেই চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন ও ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় একজন অধ্যাপককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং ছয়জনকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ মোট ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেই শিক্ষক সমিতির বিতর্কিত বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

