রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রম, জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস ব্যবহার এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)। এদের মধ্যে তিনজনই চীনা নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়— যার মধ্যে রয়েছে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ প্রায় দুই লাখ দশ হাজার টাকা।
তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা জিয়ানা নামের ওই নারী পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থান করে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আনুমানিক দুইশ থেকে আড়াইশ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি বিভিন্ন সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে চাকরি, বিশেষ অফার কিংবা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় সংযুক্ত লিংকে ক্লিক করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার শিকার হতেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়ানোর জন্য চক্রটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করত বলে জানিয়েছে ডিবি। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে একাধিক সিম স্লট বাহ্যিকভাবে যুক্ত করে একসঙ্গে বারোটি পর্যন্ত সিম পরিচালনা করা হতো, যার ফলে অভিযোগ উঠলেও ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত এবং প্রকৃত অপরাধী শনাক্তকরণ ব্যাহত হতো।
গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। এই ঘটনার মাধ্যমে রাজধানীতে বিদেশি নাগরিকদের ছদ্মাবরণে পরিচালিত সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধ চক্রের একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

