নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণেও সংস্থাটির সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা।
সোমবার রাজধানীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস। এই বৈঠকেই দুই পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের একটি অগ্রণী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য আইওএমকে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনায় তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়গুলোর ওপর। স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও কৃষি খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নারী অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সংকটাপন্ন দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইওএমের অতীত সহায়তার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।
জবাবে আইওএমের উপ-মহাপরিচালক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশটির সক্রিয় ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের মানবিক ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

