প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার বিচার চলছে। এমন একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান।
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি বিদ্যমান থাকলেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির কোনো জবাব এখনো ভারত দেয়নি। তার মতে, প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওই আয়োজন ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের সহায়তায় হয়েছে বলে তার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মরণীয় দিনে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং এটি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতির প্রতি অসম্মান।
ড্যাবের চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, বিগত সরকারের সময় নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা চিকিৎসাসেবা থেকে পিছিয়ে যাননি। ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, করোনা, ডেঙ্গু ও হামসহ বিভিন্ন জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, ডেঙ্গু পরীক্ষাকে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে করা এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সেই আস্থার পরিপন্থী। দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করে তিনি পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. খালেকুজ্জামান দীপুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










