বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এ সময় একদিকে যেমন গরম ও ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, অন্যদিকে খাবারে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। শুধু বাইরের খাবার নয়, রান্নাঘরের কিছু অসতর্কতার কারণেও ঘরের খাবার থেকে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, খাবার সংরক্ষণ এবং রান্নার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ভুল এড়িয়ে চলা উচিত—
একই ছুরি ও কাটিং বোর্ডে সব খাবার কাটা
কাঁচা মাছ-মাংস কাটার পর একই ছুরি বা কাটিং বোর্ড দিয়ে শাকসবজি, ফল কিংবা রান্না করা খাবার কাটলে কাঁচা খাবারের জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে যেতে পারে। এটিকে ক্রস-কন্টামিনেশন বলা হয়।
তাই সম্ভব হলে কাঁচা মাছ-মাংস এবং শাকসবজির জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ও ছুরি ব্যবহার করুন। ব্যবহারের পর গরম পানি ও ডিশওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
ডাস্টবিনে আবর্জনা জমিয়ে রাখা
রান্নাঘরের ডাস্টবিন খোলা রাখা বা কয়েক দিন ধরে আবর্জনা জমিয়ে রাখাও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পচা খাবারে জীবাণু ও মাছি আকৃষ্ট হয়, যা খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
ডাস্টবিনে ঢাকনা ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।
শাকসবজি ও ফল ভালোভাবে না ধোয়া
বর্ষায় শাকসবজি ও ফলে মাটি, জীবাণু, কীটনাশক বা অন্যান্য দূষিত পদার্থ থাকতে পারে। তাই রান্নার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে কাঁচা খাওয়ার ফলমূল ভালোভাবে পরিষ্কার না করে খাওয়া উচিত নয়।
একই তেল বারবার ব্যবহার
ভাজাপোড়ার পর একই তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বারবার গরম করলে তেলের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে এবং ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ব্যবহৃত তেল পুনরায় রান্নায় না দেওয়াই ভালো।
হাত না ধুয়ে রান্না করা
রান্না শুরুর আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া জরুরি। বিশেষ করে কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পর হাত না ধুয়ে অন্য খাবার স্পর্শ করলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মোবাইল ফোন, দরজার হাতল বা অন্য কোনো অপরিষ্কার জিনিস ধরার পরও খাবার স্পর্শ করার আগে হাত পরিষ্কার করা উচিত।
খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই খাবার অতিরিক্ত সময় বাইরে না রেখে পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত।
প্রয়োজনে খাবার যথাযথভাবে ঠান্ডা করে দ্রুত ফ্রিজে রাখা এবং ফ্রিজও নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার।
খাদ্যজনিত অসুস্থতা এড়াতে যা করবেন
বর্ষাকালে পেটের সমস্যা ও খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে—
- রান্নার আগে ও খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
- কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখতে হবে।
- রান্নাঘর ও কাটিং বোর্ড নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
- খাবার ঢেকে রাখতে হবে।
- দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখা খাবার খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
- খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া খাবার এবং দীর্ঘ সময় আগে কেটে রাখা ফলমূল এড়িয়ে চলা ভালো।
- নিরাপদ ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করতে হবে।
সামান্য সতর্কতাই পারে রান্নাঘরকে জীবাণুমুক্ত রাখতে এবং বর্ষাকালে খাদ্যজনিত নানা সমস্যা থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।










