নওগাঁর প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আজন্ম দৃষ্টিহীন শাকিল হোসেন। মেধা, অধ্যবসায় ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করলেও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন তিনি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাকিল হোসেন।
শাকিলের জীবনের গল্প শুরু হয় নওগাঁর একটি অজপাড়া গ্রাম থেকে। জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন হওয়ায় পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পথে তাকে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর্থিক সংকটও ছিল তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা তাকে দমাতে পারেনি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে সফলভাবে শিক্ষাজীবন শেষ করেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর একটি চাকরির আশায় বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করতে থাকেন শাকিল। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
শাকিলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তার রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সহযোগিতায় শাকিলের চাকরির ব্যবস্থা করেন।
মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল হোসেন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নওগাঁ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর চাকরি পাওয়ায় শাকিলের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তার এই নিয়োগ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও আশাবাদ তৈরি করেছে।










