ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পানির ঢলে নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ভারত। নেপালের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। এই বিশেষ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংকটের সময়ে নেপালের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতাও এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে ভারত।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে নেপালের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর জানুয়ারি থেকে দেশটিতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ২৬ আগস্ট চীন ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ও পাহাড় ধসের পর ভয়াবহ বন্যা এবং আকস্মিক পানির ঢলে নেপাল ও তিব্বতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যায় নেপালের অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী বলে জানা গেছে।
বন্যার আগে নেপালের প্রায় পুরো বিদ্যুৎ চাহিদাই জলবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হতো। কয়েক বছর ধরে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের একটি অংশ ভারতেও রপ্তানি করে আসছিল দেশটি। কিন্তু সাম্প্রতিক দুর্যোগে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে নেপালকে।
বন্যার কারণে নেপালে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো প্রায় ৫ কোটি ডলার সহায়তা সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে।
নেপালি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করতেই অন্তত ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, গত এক দশকে হিমবাহ গলার গতি বেড়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা ও পানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদ্যুৎ সহায়তা নেপালের চলমান সংকট সাময়িকভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।










