স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা করেছে, সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনার পর স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বড় পরিসরের আয়োজন বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ কারণে ইসির ঘোষিত সম্ভাব্য সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আন্তমন্ত্রণালয় সভার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে এলো। ইসি সূত্রে জানা গিয়েছিল, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় নির্বাচন ছাড়াও রাজধানীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও নির্ধারিত বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ কমানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীকে সর্বোচ্চ স্বস্তি দেওয়া, জনদুর্ভোগ কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট ও ভোগান্তি বাড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে একই সময়ে প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ অন্যান্য নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে তদারকির জন্য এমআরটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি ১৫ দিন পরপর উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন হলে কর্মকর্তা পর্যায়ের সাব কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।










