পাকিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের জন্য সন্ত্রাসবাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কয়েক দশক ধরে প্রতিবেশী একটি দেশের নীতির অংশ হিসেবে ভারত যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হয়েছে, বিশ্বের খুব কম দেশই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো বিষয় ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অংশীদার দেশ সেটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে বা উপলব্ধি না করলে দুই দেশের সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তার মতে, অংশীদারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক বিভিন্ন জটিলতা নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও মানুষের চলাচল নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব ইস্যু দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ধারণা ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে বাণিজ্য, রাশিয়ার তেল এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, চুক্তিটি আলোচনার দিক থেকে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। জয়শঙ্করের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো ভারত-চীন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










