দেশে শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাদের একটি অংশ জীবিত উদ্ধার হলেও অনেকেরই মিলছে মরদেহ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে সারাদেশে ৪৬ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে জীবিত এবং চারজনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৩১ শিশু।
মুন অ্যালার্ট ও জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান বলেন, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে প্রথম তিন ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দ্রুত তৎপরতা শুরু হলে উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ে। তার অভিযোগ, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও বিশেষায়িত কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে।
নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। তাদের অভিযোগ, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক শিশুর সন্ধান পেতে দেরি হয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ২৫৪ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৪ শিশুকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছর সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৭২ হাজার ৪৮৯টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০টি।
পুলিশ বলছে, ছোট শিশুরা অনেক সময় পথ ভুলে হারিয়ে যায়। অন্যদিকে কিশোর-কিশোরীদের কেউ কেউ পারিবারিক কলহ, অভিমান কিংবা স্বাধীনভাবে থাকার আকাঙ্ক্ষায় বাড়ি ছাড়ে। তবে নিখোঁজের পর কিছু শিশুর পরিণতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনা ঠেকাতে রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ, কার্যকর তদন্ত এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।










