শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভোগান্তি ও অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করার কারণে চিকিৎসক ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে বলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি মিথ্যা। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত নিজের ফেসবুক পেজে ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায় ??’ ক্যাপশনে একটি লাইভ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে লাইভ করায় সেই নারীর ব্যাংক হিসাব তলব’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে অনলাইনে অনুসন্ধান চালায়। তবে চিকিৎসকের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ, তথ্যসূত্র কিংবা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডটি গত ৩ অক্টোবর ‘C16 Archive’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছিল। পেজটি নিজেকে প্যারোডি বা স্যাটায়ারধর্মী পেজ হিসেবে উপস্থাপন করে। সেখানে একই ধরনের আরও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রিউমর স্ক্যানার জানায়, আলোচিত ফটোকার্ডটিও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তব ঘটনা বলে প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া, বিষয়টি নিয়ে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমেও সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে লাইভ করার কারণে ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে বলে যে দাবি ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ফটোকার্ড দেখেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।









