আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলা গেজেটা
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৪০টিরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও শত শত শিশু। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে অন্তত ৩৩টি শিশু। এ ছাড়া আগে আহত হওয়া আরও দুই ছেলে পরে মারা গেছে।
পিরেসের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাজার শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সহিংসতা যুদ্ধবিরতি বলতে সাধারণভাবে যে পরিস্থিতি বোঝায়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় এখনো প্রায় আট লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনেকেই তাঁবু কিংবা বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অনিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। নিরাপদ বাসস্থান, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় সেবা না থাকায় এসব শিশুর দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসন্ন শীতের মাসগুলো নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়, উষ্ণ পোশাক, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকট বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘ সংঘাত, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি গাজার শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।










