রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নতুন নীতিমালায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ডিএমডি পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও এমডি পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ডিএমডি হিসেবে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ নবম গ্রেড থেকে ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল রয়েছে।
একই খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের এমডি নিয়োগে দুই ধরনের নীতিমালা কার্যকর থাকায় ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা হলেও বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য একই সুযোগ না রাখায় যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ ধরনের নীতিগত পার্থক্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষ যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা ইতিবাচক হলেও তা যেন নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
তাই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যাতে যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয় এবং ব্যাংকিং খাতে বৈষম্যের সুযোগ না থাকে।









