আজ ৪ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় যেদিনকে অনেকেই ‘৩৫ জুলাই’ হিসেবে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের এই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্দোলনের সমন্বয়কদের মতে, সরকারের সম্ভাব্য কঠোর দমন-পীড়নের আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রথমে ৬ আগস্ট কর্মসূচি পালনের ঘোষণা থাকলেও, ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এক ভিডিও ও বার্তায় ঘোষণা দেন—‘পরশু নয়, আগামীকালই লং মার্চ টু ঢাকা’, যা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সমন্বয়কদের দাবি, সরকার ৫ আগস্ট বড় ধরনের দমন অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই সময় নষ্ট না করে কর্মসূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন দেরি হলে আন্দোলন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা জানতে পারেন যে সরকার আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই ধরনের বক্তব্য দেন আরেক সমন্বয়ক মাহিন সরকারও। তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি এগিয়ে না আনলে ঢাকায় আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা ছিল।
পরে ছাত্রসংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ পালনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারাও কর্মসূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তে সম্মতির কথা জানান।
আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া পরে বলেন, এই সিদ্ধান্তই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। তার ভাষায়, ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ ছিল না, তাই আগের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
আন্দোলনের নেতাদের মতে, ৪ আগস্টের সেই ঘোষণার পরদিন ৫ আগস্ট রাজধানীর রাজপথে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে এবং আন্দোলন নতুন গতি পায়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সেই দিনের স্মৃতি স্মরণ করে আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে আবারও লেখেন—‘পরশু নয়, আগামীকালই লং মার্চ টু ঢাকা।’









