কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রায় ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালু হওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংকট কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে। তবে টার্মিনালটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ এমএমএসসিএফডি (মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট প্রতিদিন) হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি পুরোপুরি সমাধান হওয়ার পর ধীরে ধীরে সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি সফলভাবে মেরামত করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা নিবিড় কারিগরি কাজ শেষে টার্মিনালটি পুনরায় সীমিত কার্যক্রমে ফিরেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সফলভাবে আনলোড করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। সে ক্ষেত্রে দৈনিক সরবরাহ ২৫০ থেকে ৩০০ এমএমএসসিএফডি পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ জানায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে।
প্রায় ১৬ দিনব্যাপী মেরামত কাজ শেষে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি তদারকি অব্যাহত থাকবে।










