জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্যক্তির মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিচয় যাই হোক না কেন, শরিয়াহর বিধান সবার জন্য সমান। তাই ইসলামি মূল্যবোধ ও আকিদার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পীর সাহেব দেওনা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র ও জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীর মতো বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব বা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করারও দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে অনেক আলেম কারাবরণ ও শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ তাদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার মতে, ভাস্কর্যের পরিবর্তে আত্মত্যাগী আলেম ও শহীদদের জীবন, সংগ্রাম ও অবদানের ইতিহাস সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।










