স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলা গেজেটা
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জেতা প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন। কিন্তু ১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কিংবদন্তি গোলকিপার লেভ ইয়াশিনের পর আর কোনো গোলরক্ষক এই পুরস্কার জিততে পারেননি। ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গোলকিপারদের এই সাফল্য অধরাই রয়ে গেছে। এর পেছনে রয়েছে ফুটবলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ধরন, গোলের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ এবং গোলরক্ষকদের অবদান পরিমাপের জটিলতা।
গোলকিপারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের অন্যতম উদাহরণ জার্মানির কিংবদন্তি অলিভার কান। ২০০২ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি। একই বছর ব্যালন ডি’অরেও তৃতীয় হয়েছিলেন কান। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর একটি ভুলে গোল হজমের ঘটনা পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর অবদানকে অনেকের চোখে ম্লান করে দেয়।
ব্যালন ডি’অরে গোলকিপারদের কাছাকাছি যাওয়ার আরও উদাহরণ রয়েছে। ১৯৭৩ সালে ইতালির দিনো জফ দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ের পর জিয়ানলুইজি বুফন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পর ম্যানুয়েল নয়্যারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। কিন্তু কেউই ইয়াশিনের কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।
এর অন্যতম কারণ, গোল ও অ্যাসিস্টের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান সহজেই পরিসংখ্যানে তুলে ধরা যায়। অন্যদিকে গোলকিপারের অবদান অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। বিপজ্জনক পাস আগেই বুঝে বল ক্লিয়ার করা, সঠিক অবস্থান নেওয়া, রক্ষণভাগকে নির্দেশনা দেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ তৈরি হওয়ার আগেই তা নষ্ট করে দেওয়ার মতো কাজগুলো ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব সময় পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।
এ ছাড়া গোলকিপারদের একটি ভুলও বড় আলোচনার জন্ম দেয়। একজন ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল করে নায়ক হতে পারেন। বিপরীতে, একজন গোলরক্ষক প্রায় পুরো ম্যাচ দুর্দান্ত খেলেও শেষ মুহূর্তের ভুলে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
গোলকিপারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে প্রত্যাশিত গোল প্রতিরোধ, পজিশনিং, বল বিতরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। শুধু ক্লিন শিট দিয়ে একজন গোলরক্ষকের সামগ্রিক অবদান বিচার করা যথেষ্ট নয়।
গোলকিপারদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে আলাদাভাবে ইয়াশিন ট্রফি দেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যালন ডি’অরে তাঁদের স্বীকৃতি এখনও সীমিত। ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে গোলরক্ষকদের পিছিয়ে থাকা তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।









