যুদ্ধের ময়দান ও রাজনৈতিক অঙ্গন, দুই ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয়ের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কাছে কৌশলগতভাবে পরাজিত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প।
রোববার (৮ নভেম্বর) ওয়াইওনের এক প্রতিবেদনে রেজায়ির এ বক্তব্যের কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে এমন মন্তব্য করেন ইরানের এই কর্মকর্তা।
রেজায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজনৈতিকভাবেও চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের আট মাস পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রভাব মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্পও এ বক্তব্যের সঙ্গে অনেকাংশে একমত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে প্রায় ২০ সদস্যের একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। দলটি ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের সরবরাহ বন্ধে কাজ করবে।
সেন্টকমের দাবি, শনিবার ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।










