লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে নিয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত নতুন প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে জোটটির প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর সৌদি আরব এ উদ্যোগ নেয়। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হলে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব হয়ে বিকল্প পথে বাণিজ্য পরিচালনার প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যায়।
সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবুর কাছাকাছি হওয়ায় বাব এল-মান্দেবের নিরাপত্তা রিয়াদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে হুথি গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ আরও জোরদার করে।
জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন—এই ১৪টি দেশ জোটে যুক্ত হয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানো পণ্য, লোহিত সাগর ও সংশ্লিষ্ট নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবের মতো কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই জোটটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।










