মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘পরাজিত’ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর দাবি, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস মারফি এসব মন্তব্য করেন বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিনেটর মারফি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর ক্ষতি তত বাড়তে থাকবে। তাই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন হলে ‘খারাপ চুক্তি’ হলেও তিনি সেটিকে সমর্থন করবেন।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রিস মারফি বলেন, ‘যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো প্রয়োজন, কারণ যুদ্ধ প্রতিদিন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আমেরিকা তত দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।’ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও এই সংঘাতের কারণে বাড়তি ব্যয়ের চাপের মুখে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মারফি আরও জানান, চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য নতুন কোনো অর্থায়নে তিনি সমর্থন দেবেন না। তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করার উদ্যোগে তিনি সমর্থন করবেন বলে জানান।
এদিকে যুদ্ধের সমাপ্তি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধের মতো বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি










