যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ‘আংশিক আলোচনা’ চলার কথা জানালেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। সোমবার (১০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। সেনটকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজকে নিষ্ক্রিয় করা এবং আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার আগে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
তিনি জানান, ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে নতুন নৌপথ নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, মার্কিন হামলা ও হুমকি বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ধীরে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমেনি; বরং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।










