সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সিরিয়ার নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর ওপর থাকা সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এইচটিএসকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকেও সংগঠনটির নাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো এইচটিএসের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের লেনদেন করতে পারবে। এর মাধ্যমে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এইচটিএসের সাবেক দুই সদস্য সাদ বিন সাদ মুহাম্মদ শারিয়ান আল-কাবি ও জামাল হুসাইন জাইনিয়াহর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে আল-কায়েদা ও হুরাস আল-দিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির ওপর থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করতে শুরু করে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এইচটিএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। সংগঠনটির শিকড় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সিরিয়ার ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তনের পর ওয়াশিংটন সংগঠনটির বিষয়ে ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ পুরোপুরি সরিয়ে নেয়নি, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।










