পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকার দির কলোনিতে অবস্থিত আল খায়ের এডুকেশন সেন্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল ভবনের ওপরের তলার ছাদ নিচের শ্রেণিকক্ষের ওপর ধসে পড়লে ভবনের দুটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফয়জি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা দেখেন, একটি ছাদ আরেকটির ওপর ধসে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকটি শিশু ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অভিভাবকেরা স্কুলে ছুটে যান। তাঁদের অনেকে নিজের সন্তানদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের আশপাশে উদ্বিগ্ন অবস্থায় অপেক্ষা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং রাতভর ভারী বৃষ্টিপাত ভবনধসের কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে প্রাদেশিক প্রশাসন। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং আহত প্রত্যেককে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এসবিএস নিউজ, ডন, এএফপি ও রয়টার্স










