শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মর্যাদা ও উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসন ক্যাডারের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার থেকে পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এ পরিস্থিতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাও বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পান। তাই তাদের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।
উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না। এসব পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কতটা কার্যকরভাবে শিখছেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে এআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী।










