কক্সবাজারের দরিয়ানগরে অনিরাপদভাবে পরিচালিত প্যারাসেলিং থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ফরিদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ছয় দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-১৫-এর মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, র্যাব-১৫ ও র্যাব-৪-এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকেই ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ফরিদের বয়স ৪৫ বছর। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে র্যাব জানিয়েছে। এর মধ্যে প্যারাসেলিং ব্যবসাও রয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট দুপুরের দিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের সদর থানাধীন দরিয়ানগর এলাকায় ফরিদের পরিচালিত প্যারাসেলিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তাজনিত অবহেলার কারণে উড্ডয়নের সময় প্যারাসেলিংয়ের রশি ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে খুলনা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায় (৩১) সমুদ্রে পড়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে উদ্ধারে বিলম্ব হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে র্যাব জানায়। এরপর প্রধান অভিযুক্ত ফরিদকে শনাক্ত করতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ফরিদ ঢাকার মিরপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে র্যাব-১৫ ও র্যাব-৪-এর সমন্বিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ কক্সবাজার থেকে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উদ্ধার করা আলামতসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, প্যারাসেলিং পরিচালনায় নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না এবং অন্য কারও গাফিলতি বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










