পটুয়াখালীর বাউফলে মহিষের পাল ও জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকে মারামারির ঘটনায় জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদী হয়ে বাউফল থানায় এজাহারটি দাখিল করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় মহিষের পাল চলাচলের কারণে জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট হয়। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে সোমবার রাত ৯টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব বাজারে তা মীমাংসার জন্য সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে স্থানীয় জামায়াত নেতা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এজাহারে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামকে ২ নম্বর এবং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আল-আমিন, আরিফুল, সাকিব, ফিরোজ হাওলাদার ও সোহেল হাওলাদারকে আসামি করা হয়েছে।
সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শাহিন রাড়ি, মাঈনুদ্দিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত মাঈনুদ্দিন অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা সোহাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুলসহ ৮ থেকে ১০ জন তাদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে আহত শাহিন রাড়ির দাবি, হামলার সময় তার কাছ থেকে জমি বিক্রির ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, লালচরে মহিষ পালনকারীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আলোচনার সময় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়া জানান, আহত শাহিন রাড়ির মাথায় প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার বাম হাতের কাঁধেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাঈনুদ্দীনের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় মাঈনুদ্দিন সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এজাহার দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।










