ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিতের পাশাপাশি আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপরও স্থগিতাদেশ চেয়েছেন আবেদনকারী।
এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দেন। ওই দিনই তিনি শপথ নেন।
সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ঋণখেলাপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন। শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন এবং তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করা হয়।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তবে তাঁর নির্বাচনী ফলাফল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী হন সরোয়ার আলমগীর। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার কারণে তখন তাঁর নির্বাচনী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীনের করা আপিলের ওপর শুনানি হয়। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ এ বিষয়ে আদেশ দেন। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট রুলের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।
আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর বিষয়টি আবার হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দেন। ওই রায়ের পর তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পথও খুলে যায়।
তবে হাইকোর্টের সেই রায় মেনে না নিয়ে এবার আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। নতুন লিভ টু আপিলের মাধ্যমে তিনি হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ চেয়েছেন। একই সঙ্গে রায় কার্যকর স্থগিত এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।
এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে চট্টগ্রাম-২ আসনের এই বহুল আলোচিত নির্বাচনী ও আইনি বিরোধের পরবর্তী ধাপ। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রম এবং তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।










