মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের পোর্ট ডিকসনে তিন বাংলাদেশি সহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালয় ভাষা ঠিকমতো বুঝতে না পারায় আদালত তাঁর বোঝার উপযোগী ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দোভাষীর মাধ্যমে আবারও অভিযোগ পড়ে শোনানোর কথা রয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইদ্রিস আলীকে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মো. নজরুল ইসলাম, মোহাসিন ও কিরণ মিয়াকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল সাকিনাহ রসলির সামনে মালয় ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রথমে ইদ্রিস আলী অভিযোগ বুঝেছেন বলে মাথা নাড়লেও পরে আদালতের কাছে স্পষ্ট হয়, তিনি অভিযোগের বিষয়বস্তু পুরোপুরি বুঝতে পারেননি।
এরপর আদালত বাংলাদেশি দোভাষী আনার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত যাতে নিজের বোধগম্য ভাষায় অভিযোগের বিস্তারিত বুঝতে পারেন, সে জন্য পরবর্তী শুনানিতে দোভাষীর সহায়তায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বুধবারের শুনানিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়ির পেছনের গলি এবং সাউয়া মাঙ্গিস এলাকার একটি পামবাগানে তিন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পৃথক স্থানগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির আইনে এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড না হলে আদালত সর্বোচ্চ ১২টি বেত্রাঘাতের শাস্তিও দিতে পারেন।
একই ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো. কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তামান লিঙ্গি এলাকায় বিকেল ৪টার দিকে কাজল মণ্ডলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় আনা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও সেশনস কোর্টের বিচারক তাসনিম আবু বকর আগামী ১৩ আগস্ট অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর দিন ধার্য করেছেন।
মামলার শুনানিতে নেগেরি সেম্বিলানের পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালক ইংকু আহমাদ রাশদি ইংকু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ইদ্রিস আলীর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। ফলে পরবর্তী শুনানিতে মূলত দোভাষীর মাধ্যমে অভিযোগ বোঝানো এবং আদালতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মামলাটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ইদ্রিস আলীকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।










