বেঁচে থাকলে আজ ৫৭ বছরে পা দিতেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া কোকো ছিলেন রাজনীতির আড়ালে থাকা একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। বিশেষ করে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ।
শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল আরাফাত রহমান কোকোর। খেলাধুলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা পরবর্তী জীবনেও অব্যাহত ছিল। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখেন। ক্রিকেটকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ, আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
রাজনীতির সরাসরি মাঠে না থেকেও কোকো ছিলেন শান্ত স্বভাবের, বিনয়ী ও মানুষের প্রতি আন্তরিক একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর সহজ সরল জীবনযাপন এবং ক্রীড়াপ্রেমের স্মৃতি আজও অমলিন।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর পর দেশে নিয়ে আসা মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জন্মদিন উপলক্ষে আজ বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাঁর কবর জিয়ারত করে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
এদিকে আরাফাত রহমান কোকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সারাদেশে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কোকোকে স্মরণ করছেন। পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘদিনের শুভাকাঙ্ক্ষী ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।
বেঁচে থাকলে আজ ৫৭ বছর বয়সী আরাফাত রহমান কোকো হয়তো আরও অনেকটা সময় দেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে কাটাতেন। তবে তাঁর চলে যাওয়ার এক দশকের বেশি সময় পরও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ সরল সম্পর্কের স্মৃতি তাঁকে আপনজনদের মাঝে বাঁচিয়ে রেখেছে।










