বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সমাজে যেন আর কখনো কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক বা সামাজিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পথ কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক নয়। বরং ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই মানুষের মধ্যে আস্থা ও ঐক্য তৈরি করা সম্ভব।
ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, জাতীয় জীবনেও তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।
জাতীয় জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়কে এই সরকারি ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতাদের সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূলে ধর্মীয় নেতাদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে—এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এজন্য রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। গণতন্ত্র, সুশাসন










