সেপ্টেম্বর মাসে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৭৫টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। এসব ভুল তথ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে ২৪০টি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ভুল তথ্যের সংখ্যা ১৮০টি, যা মোট শনাক্ত ভুল তথ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া জাতীয় বিষয়ে ৩৪টি, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১৫টি, ধর্মীয় বিষয়ে ১৯টি, বিনোদন বিষয়ে ৪টি, শিক্ষা বিষয়ে ২টি, খেলাধুলা ও প্রতারণা বিষয়ে একটি করে এবং অন্যান্য বিষয়ে ১৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
ভুল তথ্যের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, তথ্যভিত্তিক ভুল ছিল ১২০টি। ভিডিওকেন্দ্রিক ভুল তথ্য ছিল ৯৭টি এবং ছবিকেন্দ্রিক ৫৮টি। শনাক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০০টিকে মিথ্যা, ২৬টিকে বিকৃত এবং ৪৯টিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে। সেপ্টেম্বরে ফেসবুকে ২৫৮টি, ইনস্টাগ্রামে ৩৯টি, ইউটিউবে ১৫টি, এক্সে ২০টি, টিকটকে ২৫টি এবং লিংকডইনে অন্তত দুটি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৩৪টি এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে ছয়টি ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে ২১টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশি পরিচয়ধারী অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিষয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। বিএনপি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ৪৬টি, বিএনপি ও এর নেতাকর্মীদের নিয়ে ২৬টি এবং জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ১৭টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ২৬টি এবং আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে ৭১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ৬৬টি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ডিপফেক। সার্কাজম পেজের কনটেন্ট বাস্তব দাবি হিসেবে ছড়ানোর ঘটনাও ছিল ৩৭টি।










